সীতাকুণ্ডে ‘জামায়াত-শিবিরের’ নাশকতা ঠেকাবে আওয়ামী লীগ

Tweet

দৈনন্দিন ডেস্ক:
সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ‘জামায়াত-শিবিরের’ অব্যাহত নাশকতা মধ্যে সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে দলের মধ্যে সমালোচনার পর তা প্রতিরোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর দোস্ত বিল্ডিংয়ে সীতাকুণ্ডের পরিস্থিতি মোকাবিলা করণীয় নিয়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় নাশকতা ঠেকানোর সিদ্ধান্ত হয়। দলের স্থানীয় যেই নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে এই নাশকতা চলছে বলে এলাকাবাসীদের অভিযোগ, তাদের মধ্যে দুজন- সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাংসদ এবিএম আবুল কাশেম মাস্টার এবং  সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল বাকের ভুঁইয়া- এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সংগঠনের মধ্যে ‘অনৈক্য’ ঘুচিয়ে নাশকতা প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা শাখার নেতারা।
আওয়ামী লীগের উত্তর জেলা সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম উপস্থিত ছিলেন। এম এ সালাম  বলেন, “উপজেলা আওয়ামী লীগে কিছু অনৈক্য ও সমন্বয়ের অভাব ছিল। উপজেলা কমিটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে হয়ত নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ ছিল। তাই এতোদিন যথাযথভাবে সন্ত্রাস প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।” যে কোনো মূল্যে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিরোধ করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, সভায় ঐক্যবদ্ধভাবে জামায়াত-শিবিরের নাশকতা প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।
সভায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ঐক্যবদ্ধভাবে জামায়াত-শিবিরের নাশকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।”
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, জামায়াত-শিবির যেখানেই সংহিসতা করবে সেখানেই তাদের প্রতিহত করতে হবে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় গত দেড় মাসে অন্তত ১৫ দিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে নাশকতা চালানো হয়। এর জন্য স্থানীয় জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীদের দায়ী করছেন এলাকাবাসী ও পুলিশ। এসব সহিংসতার ঘটনায় কমপক্ষে চার শতাধিক যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
সবশেষ গত বুধবার স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে দাবি করে মহাসড়কে তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবির। ওই দিন জামায়াত-শিবিরকর্মীরা বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাদাকাত উল্লাহসহ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে আগুন দেয় এবং ভাংচুর চালায়।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা মহাসড়কে অব্যাহতভাবে তাণ্ডব ও নাশকতা চালাতে পারছে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় কর্মীরা।

Leave a Reply