পর্নোগ্রাফি আইন পর্নোগ্রাফিতে তথ্য-প্রযুক্তির অপপ্রয়োগ

Tweet

mobile pornoমানবাধিকার ডেস্ক:
তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সমাজে কিছু লোক নানা ধরনের অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। অপরাধীরা তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ক্রমেই জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে।   তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার করে যে সব অপরাধ হয় তার একটি বড় অংশ জুড়ে আছে পর্নোগ্রাফি। পর্নোগ্রাফির ভয়াবহতা রোধে সরকার ২০১২ সালে `পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন` করে। এ আইনের মাধ্যমে বিভিন্ন মাধ্যম পর্নোগ্রাফি সৃষ্টি, বাজারজাত করণ বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাধানিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সেই সাথে এ অপরাধে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে।
এ আইনে পর্নোগ্রাফি বলতে বোঝানো হয়েছে, যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোনো অশ্লীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য যা চলচ্চিত্র, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিক্স বা অন্যকোনো মাধ্যম ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যার কোনো শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই এমন যেকোনো বিষয়বস্তু। এর মধ্যে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী অশ্লীল বই, সাময়ীকি, ভাস্কর্য, কার্টুন বা রিফলেট ইত্যাদি অর্ন্তভূক্ত।
এছাড়া এসব পণ্যের সফট ভার্সন বা সংস্করণও পর্নোগ্রাফির আওতাভুক্ত।
পর্নোগ্রাফির সরঞ্জাম বলতে বোঝায় পর্নোগ্রাফী উৎপাদ, সংরক্ষণ, ধারণ, বা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ক্যামেরা, কম্পিউটার বা কম্পিউটার যন্ত্রাংশ, সিডি, ভিসিডি, ডিভিডি, অপটিক্যাল ডিভাইস, ম্যাগনেটিক ডিভাইস, মোবাইল ফোন বা তার যন্ত্রাংশ এবং যেকোনো ইলেকট্রনিক, ডিজিটাল বা অন্যকোনো প্রযুক্তিভিত্তিক ডিভাইস।
৩ ধারা অনুযায়ী পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, বহন, সরবরাহ, ক্রয়,বিক্রয়, ধারণ বা প্রদর্শন করা যাবে না।
এ আইনের অধীনে সংঘটিত কোনো অপরাধের তদন্ত করতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে। তবে ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত করতে না পারলে সর্বোচ্চ আরো ১৫ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
পুলিশ সাব-ইন্সপেকটর বা উর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো ব্যক্তি অপরাধের সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক প্রেফতার, কোনো পর্নোগ্রাফির সরঞ্জাম উদ্ধার বা জব্দ করার জন্য তল্লাশি করতে পারবেন।
জব্দকৃত সরঞ্জামাদি বা পণ্য আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
এছাড়া মোবাইল অপারেটর, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার- এধরনের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও সংরক্ষিত তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা যাবে ও তা আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে।
এছড়া তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতামতও আদালতে গ্রহণযোগ্য।
শাস্তি:
যদি কোনো ব্যক্তি পর্নোগ্রাফি উৎপাদন করেন বা উৎপাদনের উদ্দেশ্যে কাউকে বাধ্য করেন বা প্রলোভন দেখিয়ে বাধ্য করেন তবে তিনি সর্বোচ্চ সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে অন্যকোনো ব্যক্তির সামাজিক বা ব্যক্তি মযার্দা হানি করেন বা ভয়ভীতির মাধ্যমে অর্থ আদায় বা অন্যকোনো সুবিধা আদায় করেন তবে তিনি সবোর্চ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন ও সেই সাথে দুই লক্ষ টাকা অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি ইন্টানেটের মাধ্যমে বা ওয়েব সাইটের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি সরবরাহ করেন তাহলে তিনি এ আইনের মাধ্যমে অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবেন। এক্ষেত্রে তিনি সবোর্চ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে ও দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি পনোর্গ্রাফির মাধ্যম গণউপদ্রব সৃষ্টি করেন তবে তিনি সবোর্চ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে ও এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এছাড়া বিক্রয়, বিজ্ঞাপণ ইত্যাদির মাধ্যমে পর্নোগ্রাফির অপরাধ করলে তিনি দুই বছর কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।
পর্নোগ্রাফিতে শিশুর ব্যবহার করলে তিনি সবোর্চ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তাকে ৩০ দিনের মধ্যে আপীল করতে হবে।
তবে এ আইনের কোনো ধারার অপপ্রয়োগ করে কেউ হয়রানি মূল মামলা করলে তিনিও সবোর্চ্চ দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন ও সেই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমান প্রদান করবেন।

Leave a Reply