স্বাধীনতার ৪০ বছরেও বিদ্যুৎ পায়নি হোয়াইক্যং’র ৭শ’ পরিবার
আবদুল্লাহ নয়ন, টেকনাফ থেকে ফিরে:
ডিজিটাল যুগে থেকেও এনালক দিন যাপন করছেন টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের অন্তত ৭শ’ পরিবার। দেশ স্বাধীনের পর ‘বিদ্যুৎ’ পাবেন-এমন আশায় বুক বাধলেও কেবল ‘খাম্বা’ ছাড়া কপালে আর কিছুই জুটেনি ওদের। ফলে গ্রামের মানুষরা এখনো ‘মাটির প্রদ্বীপ’ জেলে আঁধারে আলোর প্রয়োজন মেটায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৫/৩০ বছর পূর্বে কুতুবদিয়া ও মহেশখালী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের গৃহহারা মানুষের বসতি নিয়ে গড়ে ওঠেছিল টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ‘কুতুবদিয়া পাড়া’। এর দক্ষিণে রয়েছে ‘করাচী পাড়া’ ও পশ্চিমে রইক্যং। এছাড়া রইক্যং ও কুতুবদিয়া পাড়ার মাঝখানে রয়েছে কাচার পাড়া। এই চারটি গ্রামের অন্তত ৭শ’ পরিবারের ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ দিন কাটছেন বিদুৎ বিহীন অবস্থায়। এসব গ্রামে রয়েছে ৪টি মসজিদ, ৬টি মক্তব-মাদ্রাসা ও ১০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
৩নং ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি আবুল হোসেন জানান, বিগত জোট সরকারের আমলে বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার জন্য ‘খাম্বা’ স্থাপন করা হয়। এতে এলাকাবাসীর মাঝে আশার সঞ্চার হলেও পরে হতাশ হতে হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রুহুল আমিন জানান, সরকার আসে-সরকার যায়। জনপ্রতিনিধিরা ভোটের আগে বিদ্যুৎ সহ সব কিছুই একেবারেই ঘরের ভিতর ঢুকিয়ে দেয়। পরে আর খবর থাকেনা।
কুতুবদিয়া পাড়ার বাসিন্দা আবদুস সালাম নুরী বলেন, ডিজিটাল সরকারের আমলে বিদ্যুতের আলো পাবার আশা ছিল। কিন্তু বিধিবাম। ভাগ্য আমাদের অনুকুলে আসেনি।
কুতুবদিয়া পাড়ার সরদার সৈয়দ আহমদসহ বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার নামে মিনা বাজারের মোহাম্মদ হোসেনের পুত্র হাফেজ মোকতার ও নুর মোহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার প্রতিটি ঘর থেকে চাঁদা তুলেছেন। বার বার চাঁদা নিলেও বিদ্যুতের সংযোগ এনে দেয়নি। পরে আর যোগাযোগ রাখেনি তারা।
তবে এব্যাপারে অভিযুক্ত ওই দুজনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জানান, গ্রামে বিদ্যুতের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও আমাদের কাছে সংকট বেশি। এছাড়া উৎকোচ বাণিজ্যে বিদ্যুৎ অফিসের কিছু ব্যক্তি ও দালালের পেট না ভরায় বিভিন্ন স্থানে সংযোগ দেয়ার কথা থাকলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে খুব শিগগিরই নতুন সংযোগ দেয়ার উপর আলোচনা চলছে।

