দুই ঘণ্টা পর সচল হলো ইন্টারেনট
প্রযুক্তি ডেস্ক:
চার ঘণ্টার কথা বলা হলেও দুই ঘণ্টা বিচ্ছিন্ন থাকার পর ফের সচল হয়েছে দেশের ইন্টারনেট সংযোগ। কক্সবাজারে ল্যান্ডিং স্টেশনের রি-কনফিগারেশন কাজের জন্য বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টা থেকে সোয়া তিনটা পর্যন্ত অনলাইন সংযোগের বাইরে ছিলেন দেশের ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীরা।
এর আগে ১টা ১২ থেকে থেকে ধীরে ধীরে ইন্টারনেট গতি শ্লথ হয়ে আসে। এসময় জিএসএম ও সিডিএম নেটওয়ার্কে সংযোগ চালু থাকলেও কোনো ওয়েব সাইট ভিজিট করতে গেলে ‘সার্ভার ইজ নট ফাউন্’ লেখা দেখায়। অবশেষে ভোর সোয়া ৩টার দিকে ইন্টারনেট এর গতি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। পৌনে ৪টার দিকে সংযোগ স্বাভাবিক হয়ে আসে।
সিঙ্গাপুর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে কাটা পড়া সাবমেরিন ক্যাবলের মেরামতের জন্য ইন্টারনেটে এই সাময়িক বিপত্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ১৬ দেশের সাবমেরিন কেবল কনসোর্টিয়াম (জোট) সাউথ এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ-ফোরের (সি-মি-উই-ফোর) সঙ্গে একটি মাত্র সাবমেরিন কেবল দিয়ে যুক্ত। বাংলাদেশে এটি পরিচালনা করছে বিএসসিসিএল। এই সাবমেরিন কেবল সংযোগ সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারতের চেন্নাই, শ্রীলঙ্কা হয়ে ভারতের মুম্বাই পর্যন্ত বিস্তৃত।
গত ৬ জুন সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে সাবমেরিন ক্যাবলের পুর্ব অংশ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। তখন সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন হলেও ইতালি থেকে ব্যান্ডউইথ পাওয়ায় মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল ইন্টারনেট। এবারও জরুরি ভিত্তিতে ভি-স্যাট ব্যাকআপ লিংক দিয়ে সীমিত আকারে সংযোগ চালু রাখা হয়। সর্বশেষ গত ১৮ জুলাই প্রথম প্রহরে একই কারণে টানা তিন ঘণ্টা ইন্টারনেট সংযোগহীন ছিলেন দেশের নেটিজেনরা।
দফায় দফায় সংযোগ বন্ধ রেখে ইন্টারনেট সংযোগের কারিগরি উন্নয়নে কাজ করা হলেও এখনো কচ্ছপ গতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়নি। তবে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যেই এ অবস্থার উত্তরণ ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

