‘রোহিঙ্গাদের রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়নি মিয়ানমার সরকার’

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক রিপোর্টে বলা হচ্ছে পশ্চিম মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতার পর সংখ্যালঘু মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারর কর্তৃপক্ষ সহিংস অভিযান চালিয়েছে ।
রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে ওই এলাকায় জুন মাসে রোহিঙ্গা মুসলিম ও বৌদ্ধদের মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লেও সেনাবাহিনী ও পুলিশ সেসময় নীরব ভূমিকা পালন করেছে। তারা অভিযোগ করেছে মুসলমানদের লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনী হত্যা, ধর্ষণ ও গণগ্রেপ্তার অভিযান চালিয়েছে। জুন মাসে যে সময়টায় সহিংসতা সবচেয়ে মারাত্মক আকার নেয় – তখন থেকে মিয়ানমারের সরকার রাখাইন প্রদেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদের যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে সেখানে ঠিক কি ঘটছিল তার নির্ভুল খবর পাওয়া ছিল খুবই কঠিন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই রিপোর্টটি তৈরি হয়েছে মিয়ানমারর ভেতরে এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশে নেয়া সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে। এর শিরোনামে বলা হয়েছে, সরকার চাইলে এটা ঠেকাতে পারতো।
এতে অভিযোগ করা হয়েছে যে মিয়ানমারর বৌদ্ধ এবং মুসলিমরা যখন পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং বাড়িঘর-দোকানপাটে আগুন দিয়েছে, তখন দেশটির পুলিশ এবং সেনাবাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, “সাক্ষাৎকারগুলোতে যে বর্ণনা পাওয়া যায় তাতে সবখানেই এটা ফুটে উঠেছে যে সরকার এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং দু পক্ষের লোকজনকেই আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র হাতে নিতে হয়েছে। সরকারের সুরক্ষার অভাবে উভয়পক্ষের লোকেরাই পরিকল্পনা করে একে অপরের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে এবং এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, সহিংসতার কারণে যে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ বাড়ী-ঘর ছাড়া হয় – তাদের কাছে ত্রাণ সংস্থাগুলোর পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও অত্যন্ত কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
ফিল রবার্টসন বলেন, শুধুমাত্র সাহায্য দিতে যাওয়া ত্রাণকর্মীরাই বাধা পেয়েছেন তা নয়, যারা প্রকৃত ঘটনা কি ছিল তা জানতে চেষ্টা করেছেন তাদেরও ঢুকতে দেয়া হয়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

প্রকাশক ও সম্পাদক: রাশেদুল ইসলাম। যোগাযোগ: দৈনন্দিন ভবন, প্রধান সড়ক,কক্সবাজার। মোবাইল: ০১৮১৯-৫৩৯২১৩, ০১৮১৭-২৫৪৮৬৪, E-mail: dainandin.cox@gmail.com