টেকনাফ স্থল বন্দরে জুলাই মাসে ৪ কোটি ১২ লাখ টাকার রাজস্ব আয়

আব্দুর রহমান,টেকনাফ:
টেকনাফ স্থলবন্দরে চলতি অর্থ সনের প্রথম জুলাই মাসে ৪ কোটি ১২ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। মায়ানমারে সম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে কারফিউ ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের পরও রাজস্ব আদায় স্বাভাবিক রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মায়ানমারে সহিংসতার কারণে  চলতি সনে রাজস্ব প্রাপ্তিতে সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলেছে।
কাষ্টসম সূত্র জানান, ২০১২-১৩ অর্থ বছরের প্রথম জুলাই মাসে ১০৮ টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ৪ কোটি ১২ লাখ ৮০৮ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। তার বিপরীতে মায়ানমার থেকে ১৮ কোটি ৯১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৬১ টাকার পন্য আমদানী করা হয়। চলতি অর্থ বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড(এনবিআর) কর্তৃক এ বন্দরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ না করলেও শুল্ক বিভাগ জুলাই মাসে রাজস্ব আদায় অনেকটা সক্ষম হয়েছে। অপরদিকে মায়ানমারে ১৫ টি বিল অব এক্সপোর্টের মাধ্যমে ১৮ লাখ ১৮ হাজার ৩১০ টাকার পন্য রপ্তানি করা হয়। তবে এ বন্দরে শুরু থেকে আমদানী বাড়লেও রপ্তানী অনেকটা কম। বন্দরের রপ্তানীর বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল সরকারের সু দৃষ্টি কামনা করছেন।
অন্যদিকে মায়ানমারে সহিংসতার পর কারফিউর মধ্যেও শাহপরীরদ্বীপ করিডোরে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫ শত টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। তাছাড়া স্থল বন্দর দিয়ে মায়ানমারের যাতায়তের মাধ্যম বর্ডার পাস এখনো বন্ধ রয়েছে। জুলাই মাসে এক ব্যবসায়ী ৫শত টাকা ভ্রমন কর দিয়ে মায়ানমারে রপ্তানী পন্য নিয়ে গেলেও মায়ানমার কর্তৃপক্ষ ফেরত পাঠায়।
এ স্থল বন্দর দিয়ে যে পণ্য আমদানি হয় তা- বিভিন্ন প্রজাতির হিমায়িত মাছ, বিভিন্ন প্রকার কাঠ, আচার, বড়ই, হলুদ, মরিচ, তেঁতুল, ব্যাটারি, মুলি বাঁশ, গোলপাতা, বেঁত, বিভিন্ন প্রকারের সেন্ডেল, ছাতা, গাম বুট, গরু, মহিষ, ছাগল ইত্যাদি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য রপ্তানি হয় তা হলো- ফেয়ার এন্ড লাভলী, গরুর নারি বুড়ি, ষাঁেড়র লিঙ্গ, ময়দা, ঔষুধ, চুল, গার্মেন্টস কাপড় ও গেঞ্জী ইত্যাদি।
স্থলবন্দর ব্যবসায়ীরা জানায়, মায়ানমারের সহিংসতার কারণে বন্দরের ব্যবসা ঝিমিয়ে পড়েছে। সহিংসতার পর পুরো জুন মাসে মায়ানমার থেকে কোন পন্য বন্দরে আসেনি। বর্তমানে কিছু কিছু পন্য আমদানী হলেও তা অতি নগন্য। ডলারের মূল্য ও মায়ানমারে টাকার মান বৃদ্ধির ফলে বানিজ্যিক পণ্য আমদানী ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়ে রাজস্ব আদায় কম হয় বলে ধারণা করেন।
এ ব্যাপারে স্থল বন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা কাজী আবুল হোসাইন জানায়, মায়ানমারে সহিংসতা ও টানা বর্ষনের ফলে জুলাই মাসে পন্য আমদানী কম হয়েছে।  তাছাড়া বর্তমান বাজারে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও বাংলাদেশী টাকার মান কমে যাওয়ায় সীমান্ত বাণিজ্যে লোকসানের ভয়ে ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি কমিয়ে দেয়। ফলে আমদানি আগের চেয়ে অনেক কম হওয়ার পরও রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। আমদানীর পাশাপাশি দেশীয় পন্য রপ্তানীতে ব্যাবসায়ীদের এগিয়ে আশার আহবান জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

প্রকাশক ও সম্পাদক: রাশেদুল ইসলাম। যোগাযোগ: দৈনন্দিন ভবন, প্রধান সড়ক,কক্সবাজার। মোবাইল: ০১৮১৯-৫৩৯২১৩, ০১৮১৭-২৫৪৮৬৪, E-mail: dainandin.cox@gmail.com